ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি কিনতে মিলবে ৮০ লাখ টাকা ঋণ, নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের
বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি কেনায় ঋণসীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সাধারণ গাড়ির ঋণসীমা ৬০ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহারের ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি কেনায় ঋণসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন একজন গ্রাহক এসব গাড়ি কিনতে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রচলিত জ্বালানিচালিত ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তে গাড়ি কেনার ঋণের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণ ও নিজস্ব বিনিয়োগের অনুপাত সর্বোচ্চ ৬০:৪০ রাখা হলেও বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে ৮০:২০। অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব গাড়ি কিনতে আগ্রহীদের আগের তুলনায় কম নিজস্ব অর্থ জোগাড় করলেই ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত এসেছে। বিশেষ করে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে বেশি ঋণসুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নতুন নীতিমালায় শুধু অটোলোন নয়, ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। যথাযথ জামানত ছাড়া একজন গ্রাহক এখন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারবেন, যা আগে ছিল ৫ লাখ টাকা। আর যথাযথ নিরাপত্তা বা জামানত-সমর্থিত ব্যক্তিগত ঋণের সীমা ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে তরল সম্পদের বিপরীতে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, ভোক্তা ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের মোট ঋণ প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে না যায়। অর্থাৎ খুচরা ঋণ বাড়লেও তা যেন সামগ্রিক ব্যাংকিং স্থিতিশীলতায় চাপ তৈরি না করে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া একজন গ্রাহকের মোট ঋণঝুঁকি হিসাব করার সময় তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের নেওয়া অটোলোনও বিবেচনায় আনা হবে। এর ফলে একই পরিবার থেকে একাধিক ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত দায় তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়িতে বাড়তি ঋণসুবিধা ভবিষ্যতে দেশের নগর পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এতে একদিকে যেমন জ্বালানিনির্ভরতা কিছুটা কমবে, অন্যদিকে তুলনামূলক কম নির্গমনকারী যানবাহার ব্যবহারের সুযোগও বাড়বে। তবে এর সুফল পুরোপুরি পেতে হলে চার্জিং অবকাঠামো, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং বাজারে এসব গাড়ির সহজলভ্যতাও বাড়াতে হবে।
নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার ফলে যারা ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ব্যাংকঋণ এখন আগের চেয়ে বেশি সহায়ক হতে যাচ্ছে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে সুদের হার, পরিশোধ মেয়াদ, ডাউন পেমেন্ট, বীমা ব্যয় এবং ব্যাংকভেদে শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।