অবৈধ ১৬ ইটভাটা ধাপে ধাপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে, রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ

অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর অবস্থান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত কোনো ভাটাই ছাড় পাবে না। দেবিদ্বারে ২৪টি ইটভাটার মধ্যে ৮টি বৈধ, বাকি ১৬টির বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

May 5, 2026 - 15:04
 0  6
অবৈধ ১৬ ইটভাটা ধাপে ধাপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে, রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ

অবৈধ ইটভাটা বন্ধে এবার সরাসরি কঠোর বার্তা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তালিকাভুক্ত কোনো অবৈধ ইটভাটা রেহাই পাবে না। মালিক কে, তিনি কোন রাজনৈতিক পরিচয়ের—সেটি বিবেচনায় না নিয়ে আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেবিদ্বারের ১৬টি অবৈধ ইটভাটা ধাপে ধাপে ভেঙে ফেলার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছিল কিছু ইটভাটাকে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে কি না। এর জবাবে তিনি জানান, প্রশাসনের হাতে থাকা তালিকা অনুযায়ীই অভিযান চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তালিকায় দেবিদ্বারে মোট ২৪টি ইটভাটার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮টির বৈধ ছাড়পত্র আছে, আর বাকি ১৬টি অবৈধ।

তিনি বলেন, সব অবৈধ ইটভাটা একদিনে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ ধরনের অভিযানে যন্ত্রপাতি, প্রশাসনিক সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি দরকার হয়। সে কারণে ধাপে ধাপে অভিযান এগোবে। তবে তালিকাভুক্ত সব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধেই শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, যারা বৈধ সনদপত্র নিয়ে আইন মেনে ব্যবসা করছেন, তাদের কাজে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসাকে সুরক্ষা দেওয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়া বা নিয়ম ভেঙে পরিচালিত ইটভাটার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তার বক্তব্যে অবৈধ ইটভাটার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি কাটা ও মাদক ব্যবসার বিষয়ও উঠে আসে। তিনি বোঝাতে চান, জনস্বার্থে ক্ষতিকর কোনো কাজ বন্ধ করতে গেলে একটি অংশের অসন্তোষ তৈরি হতেই পারে, কিন্তু সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। বরং আইনসঙ্গত পদক্ষেপ সফল করতে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

নির্মাণ খাতে বিকল্প উপকরণ ব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। প্রচলিত পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে ধীরে ধীরে ব্লকভিত্তিক নির্মাণ ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার পক্ষে মত দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার মতে, বিশ্বের অনেক দেশেই এই পরিবর্তন ঘটছে, বাংলাদেশেও সরকারি বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার বাড়ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা স্থাপন বা পরিচালনা করা যায় না। কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, বনাঞ্চল, জলাভূমি বা পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের ওপরও কড়াকড়ি রয়েছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি হলে প্রশাসন ভাটার কার্যক্রম স্থগিত, লাইসেন্স বাতিল কিংবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

এদিকে, সারাদেশেই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন জেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা, কাঁচা ইট ধ্বংস, চিমনি ভেঙে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। ফলে দেবিদ্বারকে ঘিরে হাসনাত আব্দুল্লাহর এই অবস্থান শুধু একটি স্থানীয় বার্তা নয়, পরিবেশ সুরক্ষা ও আইন প্রয়োগের প্রশ্নেও তা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

সব মিলিয়ে তার বক্তব্যের মূল কথা একটাই—অবৈধ ইটভাটা আর প্রশ্রয় পাবে না। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব নয়, এখন প্রধান বিবেচনা হবে আইনের বৈধতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বার্থ। দেবিদ্বারে ঘোষিত এই কঠোর অবস্থান বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে স্থানীয় মানুষের।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।