সরকারি চাকুরেদের নতুন পে স্কেল নিয়ে বড় অগ্রগতি, ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন
সরকারি চাকুরেদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির কাজের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা, অর্থ, আইন ও বিচার, স্বাস্থ্যসেবা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বৈঠক করে তারা সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে।
এই কমিটি মূলত তিনটি পৃথক প্রতিবেদনের বেতন-সংক্রান্ত অংশ যাচাই-বাছাই করবে—জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫। অর্থাৎ নতুন পে স্কেল নিয়ে এখন সরকার সরাসরি বাস্তবায়নের ধাপে না গিয়ে, প্রথমে সুপারিশগুলোর আর্থিক, প্রশাসনিক ও কাঠামোগত প্রভাব বিশ্লেষণ করছে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব জমা দেয়। সেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই এই কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে এখনই নতুন পে স্কেল কার্যকর হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে আরও কয়েকটি প্রশাসনিক ও নীতিগত ধাপ বাকি রয়েছে। সরকারের নতুন এই কমিটি সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।
নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশন হিসাব দিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখের কাছাকাছি পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এ কারণেই সরকার বিষয়টিকে শুধু বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক ভারসাম্যের দিক থেকেও বিবেচনা করছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে শুধু মূল বেতন নয়, কিছু ভাতা ও কল্যাণমূলক সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ মাসিক ভাতা, নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের টিফিন ভাতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব এবং পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কারের সুপারিশও রয়েছে। ফলে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সেটি শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের সামগ্রিক সুবিধা প্যাকেজে রূপ নিতে পারে।
সরকারি নথি ও সরকারি ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য বলছে, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ ইতোমধ্যে সরকার-গঠিত একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনেই কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে উচ্চপর্যায়ের যাচাই-বাছাই চলছে। ফলে নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা আরও জোরালো হলেও, চূড়ান্ত ঘোষণার আগে পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।