ডিসেম্বরেই এসএসসি-এইচএসসি শেষ করার পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে কবে?

ডিসেম্বরের মধ্যেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। ফল প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা—জানালেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

May 2, 2026 - 15:30
 0  8
ডিসেম্বরেই এসএসসি-এইচএসসি শেষ করার পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে কবে?

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের সেশনজট ও সময়ক্ষেপণের সমস্যা কাটাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। এসএসসি ও এইচএসসি—দুই পাবলিক পরীক্ষাই ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর ফল হাতে পাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

কী বলছেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, একাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে পারলে একই শিক্ষাবর্ষেই সিলেবাস, কারিকুলাম, ক্লাস টেস্ট এবং বোর্ড পরীক্ষা—সবকিছুই গুছিয়ে আনা সম্ভব হবে। এরপর জানুয়ারি মাস থেকেই শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকের পরবর্তী ধাপে ভর্তি হতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর হচ্ছে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের শেষ মাস। কাজেই এই মাসটিকেই পাবলিক পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট রাখা হবে। বোর্ডগুলোকে এ সময়ের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ভর্তি প্রক্রিয়ায় কী পরিবর্তন আসছে

বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যায়, এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করতে হয়। এরপর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সব মিলিয়ে শিক্ষাজীবন থেকে কার্যত হারিয়ে যায় প্রায় এক বছর সময়।

নতুন পরিকল্পনায় এই ফাঁকটি কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফল প্রকাশের পরপরই যেন উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

১৬ ও ১৮ বছরের নতুন কাঠামো

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আসবে। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় একজন শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। এতে কোনো ধরনের সেশনজটে না পড়ে তারা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

বর্তমান নিয়মে দশম শ্রেণির ক্লাস শেষ হওয়ার পরের বছর শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। একই অবস্থা এইচএসসির ক্ষেত্রেও। এতে শিক্ষাবর্ষের বাইরে অতিরিক্ত সময় চলে যায়, যা নতুন কাঠামোয় সরাসরি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে পারে নতুন সূচি

সরকারের বর্তমান লক্ষ্য, সম্ভব হলে ২০২৭ সাল থেকেই নতুন সময়সূচি কার্যকর করা। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারিকুলাম ও সিলেবাস শেষ করা যাবে কি না তার ওপর।

শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন, ২০২৬, ২০২৭, ২০২৮ কিংবা ২০২৯—কোন বছর থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে, সেটি পরের আলোচনার বিষয়। আগে স্থির করতে হবে আসলে শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন পথে এগোনো হবে। তাঁর ভাষায়, “ডিসেম্বরে একাডেমিক বছর শেষ হবে, এর মধ্যেই সব কার্যক্রম গুছিয়ে আনা হবে।”

কেন এই পরিবর্তন জরুরি

শিক্ষাবিদদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বলছিলেন, পাবলিক পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় সময় কার্যত অপচয় হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবার আলাদা প্রস্তুতি, কোচিং—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপর।

ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে জানুয়ারিতেই পরবর্তী ক্লাস বা ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলে—একদিকে যেমন সেশনজট কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে অপেক্ষাকৃত কম বয়সে।

সামনের চ্যালেঞ্জ

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সারা দেশের ১১টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা, খাতা মূল্যায়ন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ে ফল প্রকাশ—সবই নির্ভর করবে প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর। পাশাপাশি সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও তাদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। বিশেষ করে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল কলেজসহ স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষাগুলো একই সময়সীমায় আনতে দরকার হবে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও আন্তঃসমন্বয়।

শেষ কথা

দীর্ঘদিনের সেশনজট আর সময় অপচয়ের চক্র থেকে বের হয়ে আসতে এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে কাগজে-কলমে পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তব মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর প্রয়োগের ওপর। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা এখন তাকিয়ে আছেন—সরকার কত দ্রুত এই রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে পারে এবং কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন কাঠামো বাস্তবে কার্যকর হয়, সেদিকে।

আপাতত যা নিশ্চিত—শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইছে ডিসেম্বরকেই পাবলিক পরীক্ষার মাস হিসেবে স্থায়ী রূপ দিতে এবং ফল প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা খুলে দিতে। বিস্তারিত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।