প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টোকিও সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাপান। জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।

Feb 26, 2026 - 15:24
 0  5
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাপান সরকার। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে টোকিও সফরের এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি প্রথমেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করতে টোকিওর দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, মেট্রোরেল সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার বিষয়গুলো বৈঠকে প্রাধান্য পায়। এ ছাড়া এমপ্লয়মেন্ট স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় দুই দেশের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাপানি ভাষা শিক্ষার গুরুত্বের ওপর উভয়পক্ষই বিশেষ জোর দেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একটি চমৎকার প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, জাপানি নিয়োগকর্তাদের জন্য দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে একটি 'ডিজিটাল ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম' তৈরি করা উচিত। এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি হলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রফতানি আরও গতিশীল হবে এবং তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে। জাপান ২০৪০ সাল নাগাদ এক বিশাল জনশক্তি সংকটের মুখোমুখি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। সেই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপানের দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার ইতিহাসকে স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপান একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় বাংলাদেশের ৯৯.৯ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে জাপানে প্রবেশ করতে পারবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের আমন্ত্রণ — সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুনভাবে তুলে ধরবে।

এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, কালের কণ্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই সংবাদটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে এবং এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।