২ লাখ ৫০ হাজার তরুণ পাবেন বিনামূল্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও মাসিক ভাতা | ASSET প্রকল্প ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের ASSET প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৫০ হাজার বেকার তরুণ পাবেন বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মাসিক ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা ভাতা। নতুন ব্যাচ শুরু ১ এপ্রিল ২০২৬।

Mar 16, 2026 - 16:53
 0  9
২ লাখ ৫০ হাজার তরুণ পাবেন বিনামূল্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও মাসিক ভাতা | ASSET প্রকল্প ২০২৬

বাংলাদেশ সরকার এবার সত্যিই একটি বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে দেশের লাখ লাখ বেকার তরুণের জন্য। ASSET প্রকল্পের (Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation) আওতায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার তরুণ-তরুণী পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। শুধু প্রশিক্ষণই নয়, প্রতি মাসে মিলবে নগদ ভাতাও। নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে।

ASSET প্রকল্প কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

ASSET হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের যে তরুণ-তরুণীরা এখনো পড়ালেখা করছেন না, কোনো চাকরিতেও নেই এবং কোনো প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না — তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। সরকারি ভাষায় এই শ্রেণিকে বলা হয় NEET (Not in Education, Employment, or Training)। এই প্রকল্পের স্লোগান হলো — "যেখানে প্রশিক্ষণ, সেখানে কর্মসংস্থান।"

প্রকল্পটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক। শিক্ষিত তরুণরাও অনেক সময় সঠিক দক্ষতার অভাবে চাকরি পাচ্ছেন না। এই বিনামূল্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে।

কতজন পাবেন এই সুযোগ? কোথায় হবে প্রশিক্ষণ?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ পাবেন। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ জন দেশের প্রায় ৭০০টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। এই কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত রয়েছে ৩৩টি শিল্প অংশীদার প্রতিষ্ঠান

প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ কর্মক্ষেত্রভিত্তিক, যাকে বলা হয় Enterprise-Based Training (EBT)। অর্থাৎ তাত্ত্বিক পড়ার পাশাপাশি বাস্তব কাজের পরিবেশেও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থাকবে। প্রশিক্ষণের তদারকি করছে ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং চেম্বার অব কমার্স।

আগের ব্যাচে কী হয়েছে? সাফল্যের হার কত?

এই প্রকল্পের আগের ধাপে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০,০০০ তরুণ-তরুণী সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য হলো — এই প্রশিক্ষিতদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এই সাফল্যের হার প্রমাণ করে যে এই সরকারি দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও কার্যকর।

মাসিক ভাতা ও যাতায়াত সুবিধা: কত টাকা পাবেন?

প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিটি অংশগ্রহণকারী মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন। সাধারণ প্রশিক্ষণার্থীরা পাবেন মাসে ১,৫০০ টাকা। তবে যারা নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য তাদের জন্য এই ভাতার পরিমাণ আরও বেশি — মাসে ২,০০০ টাকা। এছাড়াও প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হবে, যা মাসে সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

📊 ASSET প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে
বিষয় বিস্তারিত
প্রকল্পের নাম ASSET (Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation)
মোট সুবিধাভোগী প্রায় ২,৫০,০০০ (আড়াই লাখ) তরুণ-তরুণী
নতুন ব্যাচ শুরু ১ এপ্রিল ২০২৬
বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪৫ বছর
সাধারণ মাসিক ভাতা ১,৫০০ টাকা
নারী / প্রতিবন্ধী / ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভাতা ২,০০০ টাকা (মাসিক)
যাতায়াত ভাতা দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা (মাসে সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা)
প্রশিক্ষণ মেয়াদ ২১ দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত
শিল্প অংশীদার ৩৩টি প্রতিষ্ঠান
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রায় ৭০০টি শিল্প ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
আগের ব্যাচে কর্মসংস্থান হার প্রায় ৯০%
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
প্রশিক্ষণ শেষে সনদ সরকারি সার্টিফিকেট প্রদান

কে কে আবেদন করতে পারবেন?

এই বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবেন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক যার বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এবং যিনি বর্তমানে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নেই, কোনো চাকরি করছেন না এবং অন্য কোনো প্রশিক্ষণেও অংশ নিচ্ছেন না। আবেদনের জন্য অবশ্যই একটি বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে। আবেদনে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের মানুষদের।

কী কী কোর্স পাওয়া যাবে? প্রশিক্ষণের ধরন কেমন?

এই প্রকল্পে মোট ৬ ধরনের প্রশিক্ষণ কোর্স রয়েছে। ব্যবসায়ের মালিক, প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের জন্য রয়েছে শর্ট সফট স্কিলস কোর্স। আবার সাধারণ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রয়েছে ২১ দিন থেকে শুরু করে ৬ মাস মেয়াদের কারিগরি দক্ষতা কোর্স। কিছু কোর্সে শ্রেণিকক্ষে পড়ালেখার পাশাপাশি সরাসরি কারখানায় গিয়ে কাজ শেখার সুযোগও রয়েছে, যা বলা হয় ফ্যাক্টরি অ্যাপ্রেন্টিসশিপ। কিছু কোর্স আবার ইতিমধ্যে কর্মরত শ্রমিকদের দক্ষতা আরও বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে কী পাবেন?

প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করলে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী একটি সরকারি সার্টিফিকেট পাবেন। এই সনদটি চাকরির বাজারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সরাসরি শিল্পভিত্তিক দক্ষতার স্বীকৃতি বহন করে। আগের ব্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে এই সার্টিফিকেটধারীদের প্রায় ৯০ ভাগ চাকরি পেতে সক্ষম হয়েছেন, যা এই কোর্সের বাস্তব মূল্য প্রমাণ করে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

যারা এই ASSET প্রকল্পে আবেদন করতে আগ্রহী, তাদের ASSET প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। নতুন ব্যাচের ক্লাস ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, তাই আগ্রহীদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে আবেদন না করলে এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

এই উদ্যোগ কেন দেশের জন্য বড় একটি পদক্ষেপ?

বাংলাদেশে বর্তমানে কোটি কোটি তরুণ রয়েছেন যারা সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগের অভাবে তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছেন না। ASSET প্রকল্প সেই তরুণদের জন্য একটি বাস্তব পথ তৈরি করে দিচ্ছে। শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ, নগদ ভাতা এবং সরকারি সনদ — এই তিনটি সুবিধা একসাথে পাওয়ার সুযোগ এর আগে এত বড় পরিসরে দেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বেকারত্ব কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি — দুটোতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সুতরাং, আপনি যদি ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী বেকার তরুণ হন এবং কাজে লাগার মতো একটি বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাহলে এই সুযোগটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করবেন না। মনে রাখবেন — প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে, ভাতাও আছে, এবং শেষে মিলবে সরকারি সনদ। এর চেয়ে ভালো সুযোগ খুব কমই আসে।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।