রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু, বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের কাতারে বাংলাদেশ

Apr 28, 2026 - 15:38
 0  1
রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু, বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের কাতারে বাংলাদেশ

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। দেশের বিদ্যুৎখাতে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই ধাপের মধ্য দিয়েই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তব প্রস্তুতি নতুন পর্যায়ে পৌঁছাল।

মঙ্গলবার রূপপুর প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভও এটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। 

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংকে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল ধাপগুলোর একটি ধরা হয়। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের কোরে ইউরেনিয়ামভিত্তিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বসানো হয়, যাতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার পরিবেশ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা ও কমিশনিং ধাপ শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে, পরে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে নেওয়া হবে। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। আইএইএর বাংলাদেশ প্রোফাইল অনুযায়ী, পাবনা জেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দুটি ডব্লিউডব্লিউইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে, প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই। 

রূপপুর প্রকল্প কেবল একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণেরও অংশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশে গ্যাস, তেল ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে ভবিষ্যতের বেজলোড বা স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইএইএর তথ্য বলছে, বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট তথ্যভান্ডারগুলোতে রূপপুর প্রকল্পকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। World Nuclear Association জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা রয়েছে এবং দুই ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিসরে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে শিল্প, নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎচাহিদা মোকাবিলায় নতুন সক্ষমতা তৈরি হওয়ার আশা করা হচ্ছে। 

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ শুধু চুল্লিতে জ্বালানি বসানোতেই শেষ নয়; নিরাপদ পরিচালনা, কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকি, দক্ষ জনবল এবং ধাপে ধাপে পরীক্ষিত অপারেশন—সবকিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে অর্থে রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং বাংলাদেশের জন্য প্রতীকী অর্জনের পাশাপাশি একটি বড় দায়িত্বেরও সূচনা। এখন নজর থাকবে, কবে এবং কত দ্রুত এই কেন্দ্র থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হয়।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।