বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র, ভিজিটর ভিসা চালু থাকছে

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করেছে। তবে ভিজিটর ও ট্যুরিস্ট ভিসা আগের মতোই চালু থাকবে। জানুন কারণ, প্রভাব ও সম্পূর্ণ বিস্তারিত।

Mar 2, 2026 - 05:56
 0  8
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র, ভিজিটর ভিসা চালু থাকছে

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রদান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বার্তায় জানানো হয়, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেছে। মূলত যেসব দেশের অভিবাসীরা আমেরিকায় গিয়ে মার্কিন করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত সরকারি সহায়তা তুলনামূলকভাবে বেশি হারে গ্রহণ করেন, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্যই এই ভিসা স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।

তালিকায় যেসব দেশ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো — বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভারত, মিশর, রাশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, হাইতি, ঘানা, সোমালিয়াসহ মোট ৭৫টি দেশ। অর্থাৎ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত অনেক দেশের নাগরিকরাই এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — এই স্থগিতাদেশ কেবল অভিবাসী ভিসার (Immigrant Visa) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যারা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য ভিজিটর ভিসা বা ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে চান, তাদের জন্য কোনো বাধা নেই। ভিজিটর ভিসা কার্যক্রম আগের মতোই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে — যারা ইতোমধ্যে অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছেন বা সাক্ষাৎকারের তারিখ পেয়েছেন, তাদের কী হবে? এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট জানিয়েছে, প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকরা এখনও ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রমও চলমান রাখবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, যারা আমেরিকায় আসবেন তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে এবং কোনোভাবেই মার্কিন সরকারের আর্থিক বোঝা হওয়া চলবে না। এই নীতিরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সকল ভিসা স্ক্রিনিং ও ভেটিং নীতির পূর্ণ পর্যালোচনা শুরু করেছে।

তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বধারী যাঁরা তালিকার বাইরের কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্টে আবেদন করছেন, তাঁরা এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবেন। এছাড়া আমেরিকানদের দত্তক নেওয়া শিশুরাও বিশেষ ব্যতিক্রম বা জাতীয় স্বার্থ ব্যতিক্রমের (National Interest Exception) আওতায় ভিসা পেতে পারবে।

বাংলাদেশে লক্ষাধিক মানুষ প্রতি বছর আমেরিকায় স্থায়ীভাবে থাকার স্বপ্ন নিয়ে গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসার আবেদন করেন। এই সিদ্ধান্তটি তাঁদের সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে যারা শুধুমাত্র ভ্রমণ বা পড়াশোনার জন্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিতে চান, তাদের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।