তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শেষে যোগ্য পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড দিতে সরকার নিচ্ছে বিশেষ পদক্ষেপ। তিন পর্যায়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ শেষে যোগ্য পরিবার পাবে এই কার্ড।

Feb 23, 2026 - 01:22
 0  8
তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শেষে যোগ্য পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে সরকার। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এই কার্ড পেতে হলে যোগ্য পরিবারগুলোকে পার করতে হবে তিন পর্যায়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ। এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে সরকার এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবার মাল্টি-লেভেল স্ক্রিনিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো হতদরিদ্র ও অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা। যেসব পরিবারে আয়ের পরিমাণ খুবই কম এবং যারা দৈনন্দিন জীবনযাপনে সংগ্রাম করছেন, তাদের আগে এই কার্ড দেওয়া হবে। এর ফলে তারা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সহজে পেতে পারবেন।

তিন ধাপের পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হবে। সবশেষে তৃতীয় ধাপে জেলা পর্যায়ে চূড়ান্ত যাচাই শেষে নির্ধারণ করা হবে কোন পরিবার এই ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভুল মানুষের হাতে কার্ড যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যাবে।

জাহিদ হোসেন আরও জানান, এই কার্ড বিতরণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারে নারীদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা। কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবেন। পরিবারে তাদের মর্যাদা বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাবেন। এর ফলে পুরো পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন, যাচাই ও অনুমোদন করা হবে। এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না বলে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এই উদ্যোগকে দেশের সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছেন, তারা এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে তাদের জীবনে নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছেন। সরকারের এই পদক্ষেপ সত্যিকারের দরিদ্র মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে সমাজকর্মীরা মনে করছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, কার্ড বিতরণের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্ড দেওয়া হবে। সেখানে সফলতা পেলে ধাপে ধাপে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এতে লক্ষাধিক দরিদ্র পরিবার উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যেসব পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে, তারা সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আসবে। খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা বৃত্তি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মতো সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এটি হবে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা দরিদ্র পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া এক্ষেত্রে একটি ভালো পদক্ষেপ বলে তারা মনে করেন। এর সঠিক বাস্তবায়ন হলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষরা উপকৃত হবে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

সরকারের এই নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। বিশেষ করে নারীরা আর্থিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবে। দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।