৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির প্রভাবে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বুধবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী, যে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে সেগুলো হলো নেত্রকোনার ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা এবং মৌলভীবাজারের মনু নদী। এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়ায় নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে ছোট আকারের নদীগুলোতে পানি খুব দ্রুত বাড়ছে। এ ধরনের নদীতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, ফলে আশপাশের নিম্নাঞ্চল আগে প্লাবিত হয়। বর্তমানে সেই ঝুঁকিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারে।
সরকারি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল থাকতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকা নদীসংলগ্ন, নিচু কিংবা আগেও বন্যাকবলিত হয়েছে, সেসব স্থানে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আবহাওয়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকাসহ আশপাশের নদীগুলোর পানিও আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে যখন একসঙ্গে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে পানি নেমে আসে, তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে হঠাৎ পানি বাড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কয়েকটি নদীর পানি একই সময়ে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত নজরদারি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি, ফসল ও গবাদিপশু সুরক্ষা এবং নৌ-যোগাযোগে সতর্কতা জরুরি হয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আগাম সতর্ক করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। বৃষ্টি কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে আপাতত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলার বাসিন্দাদের নদীর পানি বৃদ্ধির খবর নিয়মিত অনুসরণ করে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।