ইরানে ৪৮ নেতা নিহত — ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ও নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ৪৮ জন ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান এবং বলেন যে অভিযান নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "এক আঘাতেই ৪৮ জন ইরানি নেতা খতম হয়ে গেছেন এবং এই অভিযান দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের এই সাফল্য কেউই বিশ্বাস করতে পারবে না।" তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলেও জানান ট্রাম্প। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন বলে জানান তিনি। জনপ্রিয় মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, "তারা কথা বলতে চায়, আমিও রাজি হয়েছি।"
সিএনবিসি-কে দেওয়া আলাদা এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান শুধু নিজেদের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই করা হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে এই আলোচনা আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল এবং তারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন।
এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস-সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ইরানি প্রবাসীদের উল্লাস করতে দেখা গেছে বলে জানান ট্রাম্প। খামেনির মৃত্যুতে এই আনন্দের দৃশ্যকে তিনি "চমৎকার" বলে অভিহিত করেন।
সামরিক দিক থেকেও বড় সাফল্যের দাবি করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৯টি নৌ জাহাজ ধ্বংস ও ডুবিয়ে দিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া পৃথক একটি হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর সদর দপ্তরও প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা কখন, কোথায় এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন-ইরান সম্পর্কে এই নতুন পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।