পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনা চলছে, প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে বিজেপি; গুরুত্বপূর্ণ আসনে পাল্টা লিড তৃণমূলের
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে। সকালের প্রাথমিক প্রবণতায় বিজেপি বেশি আসনে এগিয়ে থাকলেও তৃণমূলও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্রে লিড তুলছে, আর ভুবনিপুরে এগিয়ে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা সোমবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে। প্রাথমিক প্রবণতায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তুলনামূলক বেশি আসনে এগিয়ে থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ব্যবধান কমাতে শুরু করেছে। ফলে শুরু থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই জমে উঠেছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের ইঙ্গিত মিলছে এই ওঠানামার মধ্য দিয়েই।
ভারতীয় সময় সকাল ৮টা এবং বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গণনা শুরু হয়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এবার ২৩ জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে। তবে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির গণনা শুরু হয়েছে; একটি আসনে পুনর্ভোটের কারণে সেখানে চূড়ান্ত ফল পরে জানা যাবে। এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৯২৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে।
সকালের প্রথম দিকের প্রবণতায় বিজেপি দুই ডজনের কাছাকাছি আসনে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে তৃণমূল এক ডজনের বেশি আসনে লিড নেয়। পরে ব্যবধান কিছুটা কমতে দেখা যায়। অর্থাৎ, শুরুতে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও ফল যে একপেশে হচ্ছে—এমন চিত্র এখনই স্পষ্ট নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে তৃণমূলের পাল্টা লড়াই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্রকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি ভুবনিপুর কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূলপ্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। প্রথম দিকের গণনায় মমতা কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বলে প্রবণতায় দেখা যায়।
এদিকে কিছু আসনে বিজেপির প্রার্থীরাও শক্ত অবস্থান দেখাচ্ছেন। ডায়মন্ড হারবারসহ কয়েকটি কেন্দ্রে দলটির প্রার্থীরা লিডে ছিলেন। পাশাপাশি জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ ও শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি আসনেও বিজেপির প্রাথমিক অগ্রগতি চোখে পড়েছে। আবার কলকাতা ও তার আশপাশের কিছু কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের লিড নিতে দেখা গেছে। কাসবা, এন্টালি, সিঙ্গুর ও দেগঙ্গার মতো আসনগুলোতেও তৃণমূলের অবস্থান নজরে এসেছে।
নির্বাচন কমিশন গণনাকেন্দ্রগুলোতে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সদস্যদের মোতায়েনের পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রে প্রবেশে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অনুমোদিত এজেন্টদের বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মোবাইল ফোন বহনে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। প্রথমে ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা করা হচ্ছে, পরে ইভিএমের ভোট গণনা শুরু হয়।
এই নির্বাচনের ফল শুধু পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী সরকারই ঠিক করবে না, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যও নতুনভাবে নির্ধারণ করবে। তৃণমূল টানা আরও এক দফা ক্ষমতায় ফেরার লড়াইয়ে আছে, আর বিজেপি চাইছে রাজ্যে নিজেদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখাতে। বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলও কিছু আসনে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও মূল নজর এখন তৃণমূল-বিজেপি লড়াইয়ের দিকেই।
তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো এখনো প্রাথমিক প্রবণতা। ভোট গণনার আরও কয়েকটি রাউন্ড বাকি থাকায় আসনভিত্তিক চিত্র দ্রুত বদলাতে পারে। দুপুরের পর ফলাফল আরও পরিষ্কার হওয়ার কথা, আর শেষ পর্যন্ত কোন দল সরকার গঠনের পথে এগোবে, তা নির্ভর করবে এই প্রাথমিক লিড ধরে রাখার সক্ষমতার ওপর। পশ্চিমবঙ্গের ভোটযুদ্ধ তাই এখনো খোলা, আর চূড়ান্ত ফল না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সুযোগ নেই।