সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, সীমিত ক্ষয়ক্ষতি — কোনো হতাহত নেই

সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিতে ইরানি শাহেদ ড্রোন হামলা হয়েছে। ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি, তবে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করেছে।

Mar 2, 2026 - 08:32
 0  3
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, সীমিত ক্ষয়ক্ষতি — কোনো হতাহত নেই

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার রাত মধ্যরাতের দিকে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিতে ইরানি তৈরি শাহেদ ড্রোন আঘাত হানে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ক্ষয়ক্ষতি ছিল অত্যন্ত সীমিত।

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিদেস সোমবার সকালে এক রেকর্ডকৃত বার্তায় নিশ্চিত করেন যে, একটি মানববিহীন শাহেদ ড্রোন ব্রিটিশ সার্বভৌম ঘাঁটি এলাকার ভেতরে আঘাত হেনেছে। ঘাঁটির রানওয়েতে এই ড্রোনটি আছড়ে পড়ে এবং সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

হামলার পর যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সেখানে মোতায়েন সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় থেকে ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আরএএফ আক্রোতিরি স্টেশন থেকে অপ্রয়োজনীয় সামরিক কর্মীদের ও পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে বলেছে, পার্শ্ববর্তী আক্রোতিরি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

এই হামলার সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ঘটনাটি ঘটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। স্টারমার বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে "সম্মিলিত আত্মরক্ষা" এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাজ্যের বাহিনী ইরানে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে না

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বিবিসি-কে জানান, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে — ইসরায়েল, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানে — ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এটি ইরানি শাসন ব্যবস্থার বেপরোয়া আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া কাতার থেকে পরিচালিত একটি আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান "প্রতিরক্ষামূলক বায়ু টহলের" সময় একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে — যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান শত্রু ড্রোন ধ্বংস করল।

আরএএফ আক্রোতিরি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত একটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত অভিযানের ফরোয়ার্ড বেস হিসেবে কাজ করে। উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝির পর এটিই এই ঘাঁটিতে প্রথম হামলার ঘটনা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইইউ তার সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, কারণ ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইরানের কৌশলকে "স্কর্চড-আর্থ স্ট্র্যাটেজি" বা সর্বনাশা কৌশল বলে উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘাত চলতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।