মমতার দাবি, ২২৬ পেরিয়ে ২৩০-ও ছুঁতে পারে তৃণমূল; ফলের আগে আত্মবিশ্বাসী বার্তা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দুই দফার ভোট শেষ হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস কত আসন পেতে পারে, তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, দলটি ২২৬ আসন পেরোবে, এমনকি ২৩০ আসনও ছুঁতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল জানা যাবে গণনার দিন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই বড় দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে তার দল ২২৬টির বেশি আসন পাবে, এমনকি সেই সংখ্যা ২৩০-এও পৌঁছাতে পারে।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সে হিসাবে মমতার এই দাবি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব নয়, বরং বড় ব্যবধানে আবারও ক্ষমতায় ফেরার আত্মবিশ্বাসেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের পক্ষে ভোটারদের সাড়া এতটাই জোরালো ছিল যে ফল প্রকাশের দিন সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তীব্র গরম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, জনগণের সমর্থনের জোরেই তৃণমূল আবার সরকার গঠন করবে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে এবং কিছু টেলিভিশন প্রচারে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো হয়েছে। তবে এসব সত্ত্বেও মানুষের রায় শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষেই যাবে বলে তিনি আশাবাদী থাকার কথা জানান।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে মমতা আরও অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। তার ভাষ্য, কিছু এলাকায় অযথা কড়াকড়ি, হামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই সাপেক্ষ—এ কথা মাথায় রাখা জরুরি। কারণ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক।
আসন-হিসাবের দিক থেকে দেখলে, মমতার এই দাবি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৫টি আসন। এবার যদি দলটি সত্যিই ২২৬ বা তার বেশি আসন পায়, তাহলে আগের বারের তুলনায়ও তারা আরও শক্ত অবস্থানে থাকবে। অন্যদিকে ২৩০ আসন স্পর্শ করতে পারলে সেটি হবে বিরোধীদের জন্য স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূল ২৯৪টির মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেয়; পাহাড়ের তিনটি আসনে মিত্রশক্তিকে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে মমতার ২২৬-২৩০ আসনের হিসাব কেবল জয়ের পূর্বাভাস নয়, বরং দলীয় সংগঠন, প্রার্থী বাছাই এবং ভোটব্যাংক ধরে রাখার কৌশলের ওপর তার আস্থাও প্রকাশ করছে।
তবে নির্বাচনের বাস্তবতা হলো, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক দাবি আর চূড়ান্ত ফল এক জিনিস নয়। নানা দলের শিবির থেকেই ভোটের পরে জয়ের দাবি তোলা হয়। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে আপাতত রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আসল চিত্র পরিষ্কার হবে ভোটগণনার দিন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই নির্বাচন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, রাজ্যে তৃণমূলের টানা ক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিরোধীদের শক্তি যাচাইয়েরও বড় পরীক্ষা। সেই প্রেক্ষাপটে মমতার ২২৬ থেকে ২৩০ আসনের দাবি নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
সব মিলিয়ে, বর্তমান অঙ্ক বলছে—১৪৮ পেরোলেই সরকার, ২২৬ পেরোলে বড় ব্যবধানে ক্ষমতা, আর ২৩০ ছুঁতে পারলে তা হবে তৃণমূলের জন্য আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। এখন দেখার বিষয়, ভোটের মাঠের এই আত্মবিশ্বাস ফলাফলের টেবিলে কতটা বাস্তব রূপ পায়।