বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসায় স্বস্তির ইঙ্গিত, শিগগিরই সহজ হতে পারে প্রক্রিয়া
ঢাকা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়ায় শিগগিরই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারত সফরে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিসা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি দেখার আশা করছে ঢাকা।
সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার ভারতের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। ওই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদান স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
এ বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি পেয়েছেন ভারতগামী বহু বাংলাদেশি। কারণ চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পর্যটন—বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভিসার ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রক্রিয়া সহজ হলে ভ্রমণ-পরিকল্পনা, চিকিৎসার সময়সূচি ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কার্যক্রম নির্ধারিত ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫টি ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র রয়েছে এবং সব ধরনের ভিসা আবেদন নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী জমা নেওয়া হয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ফি না থাকলেও আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য ভিসা প্রসেসিং ফি দিতে হয়। এছাড়া আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি নেওয়ার জন্য সরাসরি কেন্দ্রে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
ভারতের হাইকমিশনের ওয়েবসাইটেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ভিসাসংক্রান্ত সহায়তা, অনলাইন আবেদন এবং হেল্পলাইন সুবিধার তথ্য রয়েছে। ফলে প্রক্রিয়া আরও সহজ বা স্বাভাবিক হলে বিদ্যমান এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই আবেদনকারীরা দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এখনো ভারতীয় পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা সংশোধিত ভিসা নীতিমালা প্রকাশ হয়নি। তাই আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অফিসিয়াল ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গুজবে কান না দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতেই আবেদন প্রস্তুত রাখা। ভিসা-প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে সরকারের আশাবাদ বাস্তবে কার্যকর হলে বাংলাদেশি ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের জন্য তা বড় স্বস্তির খবর হয়ে উঠবে।