হরমুজ প্রণালি খুলতে নতুন প্রস্তাব ইরানের, আগে যুদ্ধবিরতি পরে পারমাণবিক আলোচনা

Apr 28, 2026 - 23:43
 0  3
হরমুজ প্রণালি খুলতে নতুন প্রস্তাব ইরানের, আগে যুদ্ধবিরতি পরে পারমাণবিক আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। প্রস্তাবটির মূল কথা হলো—প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ শিথিল এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা; এরপর পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা এগোতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছেছে। তেহরান চাইছে, চলমান সামরিক উত্তেজনা ও নৌ-অবরোধের চাপ কমিয়ে আগে আঞ্চলিক স্থিতি ফেরানো হোক। একই সঙ্গে ইরান আপাতত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি দরকষাকষি পেছাতে আগ্রহী বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

তবে এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে আগের তুলনায় “ভালো” প্রস্তাব এসেছে; কিন্তু তিনি পরিষ্কার করেছেন, এমন কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হবে না যাতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর নিশ্চয়তা না থাকে। একই সুরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, পারমাণবিক প্রশ্ন বাদ রেখে কোনো চুক্তি টেকসই হবে না। 

প্রস্তাবকে ঘিরে আরেকটি দিকও আলোচনায় এসেছে। এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য ফি বা টোল ব্যবস্থার বিষয়ে ওমানের সমর্থন চাওয়ার চেষ্টা করছে ইরান। যদিও এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা যৌথ ঘোষণা সামনে আসেনি।

হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—তা বোঝা জরুরি। ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত এই সরু সমুদ্রপথ পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাবে, ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম তরল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। শুধু তেল নয়, বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যেরও প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

এই রুট সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ার জন্য। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট ও এলএনজির বড় অংশই যায় এশীয় বাজারে; বিশেষ করে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এ রুটের ওপর বেশি নির্ভরশীল। ফলে প্রণালিতে বিঘ্ন তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সরাসরি চাপে পড়ে।

কূটনৈতিক তৎপরতাও একই সঙ্গে চলছে। ইসলামাবাদে আলোচনা এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও সেটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। এ সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের খবরও এসেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেহরান একদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সহায়তা চাইছে, অন্যদিকে বড় শক্তিগুলোকেও আলোচনার পরিসরে রাখতে চাইছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের এই নতুন প্রস্তাব তাৎক্ষণিক সমাধান নয়; বরং অচলাবস্থা ভাঙার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। যদি যুদ্ধবিরতি ও নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার প্রশ্নে অগ্রগতি হয়, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে পারমাণবিক ইস্যুতে স্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া এই প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।B

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।