মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: কোন দেশ কার পক্ষে? বিশ্ব নেতারা যা বললেন | ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত। কোন দেশ কার পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্ব নেতারা কী বলছেন — জানুন বিস্তারিত।

Mar 3, 2026 - 17:38
Mar 3, 2026 - 17:38
 0  7
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: কোন দেশ কার পক্ষে? বিশ্ব নেতারা যা বললেন | ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এখন আর শুধু একটি অঞ্চলের সংঘাত নয় — এটি পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে উঠেছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে আঘাত হানা হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো অঞ্চল যুদ্ধের আগুনে জ্বলে ওঠে। এই ঘটনার পর থেকে বিশ্বের বড় বড় দেশ একে একে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে — কেউ ইরানের পক্ষে, কেউ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পক্ষে, আবার কেউ মাঝামাঝি অবস্থানে।

যুদ্ধের শুরু কীভাবে হলো?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয় গত শনিবার। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসাথে ইরানে ব্যাপক হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা নিহত হন। শুধু ইরানেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬০০-এরও বেশি মানুষ। এই হামলার জবাব দিতে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা শুরু করে — সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কাতার, কুয়েত এবং লেবাননে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধের আগুন।

শুরুতে ইরানের হামলা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হলেও ধীরে ধীরে বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলা হচ্ছে বলে খবর আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। প্রয়োজন হলে ইরানে স্থল অভিযানের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

এক নজরে: কোন দেশ কার পক্ষে?

নিচের টেবিলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবস্থান সহজেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে একটু পড়লেই পুরো চিত্রটা বোঝা যায়।

দেশ অবস্থান মূল বক্তব্য / পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে (সরাসরি যুদ্ধে) ইরানে যৌথ হামলা পরিচালনা করেছে; ট্রাম্প বলেছেন যুদ্ধ ৪-৫ সপ্তাহ চলতে পারে।
ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে (সরাসরি যুদ্ধে) ইরানে যৌথ হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে; ইরানে রেজিম চেঞ্জ লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য মধ্যমপন্থী (পরোক্ষ সহযোগিতা) আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াবে না; তবে কাতারে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রাশিয়া ইরানের পক্ষে হামলাকে "পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র আগ্রাসন" বলেছে; পুতিন নিন্দা জানিয়েছেন।
চীন নিরপেক্ষ (ইরান-সহানুভূতিশীল) যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান; ইরানের "সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার" কথা বলেছে।
ফ্রান্স নিরপেক্ষ (উদ্বিগ্ন) উত্তেজনা "সবার জন্য বিপদ"; আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) নিরপেক্ষ (সংযম পালনের আহ্বান) "সর্বোচ্চ সংযম" পালনের আহ্বান; আন্তর্জাতিক আইন মানার কথা বলেছে।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন; ইরানকে "সন্ত্রাসের উৎস" বলেছে।
অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে (সরাসরি নয়) সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন; তবে সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না।
উত্তর কোরিয়া ইরানের পক্ষে হামলাকে "অবৈধ আগ্রাসন" ও "সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন" বলেছে।
ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থক (সরাসরি নয়) পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে; কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না।
ইরাক ইরানের পক্ষে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা; হামলাকে "আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন" বলেছে।
পাকিস্তান ইরানের পক্ষে খামেনি হত্যাকে "আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন" বলেছেন শাহবাজ শরিফ।
ভারত নিরপেক্ষ (কৌশলগত নীরবতা) প্রথমে নিশ্চুপ; পরে "সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন" বলে আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন মোদি।
স্পেন নিরপেক্ষ (যুদ্ধবিরোধী) যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান; ইরান-বিরোধী হামলায় ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না।
ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেলেনস্কি ইরানের বিরোধিতা করেছেন; মার্কিন সংকল্পের প্রশংসা করেছেন।
আলবেনিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পক্ষে ইসরায়েল ও আরব শান্তিকামী দেশগুলোর পাশে আছে।
হাঙ্গেরি নিরপেক্ষ (অর্থনৈতিক উদ্বেগ) তেলের দামের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভিক্টর ওরবান।
বাংলাদেশ নিরপেক্ষ (আইনের পক্ষে) আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের নিন্দা; আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে।

যুক্তরাজ্য: যুদ্ধে সরাসরি নামছে না, তবে নিষ্ক্রিয়ও নয়

যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো মিত্রদের একটি। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একটু আলাদা। যুক্তরাজ্য সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই আঞ্চলিক যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে চায় না। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, "ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া উচিত নয়, আর আমরা সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছি।" তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কাতারের আল-উবেইদ বিমানঘাঁটির সুরক্ষায় আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন। এরই মধ্যে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান কাতারের দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে — যা এই সংঘাতে ব্রিটেনের প্রথম সামরিক অংশগ্রহণ।

রাশিয়া ও চীন: ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের কৌশলগত মিত্র। তাই এই হামলার খবরে মস্কো রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে "একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র আগ্রাসন" বলে আখ্যায়িত করেছে। রাশিয়া আরও সতর্ক করে বলেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্যক্তিগতভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যাকাণ্ডকে "মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সব মানদণ্ড লঙ্ঘন" বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

ওদিকে চীন, যে দেশটি ইরানের সাথে বিশাল তেল বাণিজ্য করে, তারাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের "সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাতে হবে।" বেইজিং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপ কী বলছে? ফ্রান্স ও EU-র অবস্থান

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সাথে মিলে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি সাফ বলেছেন, এই উত্তেজনা "সবার জন্য বিপদের কারণ" এবং এটা আর বাড়তে দেওয়া যায় না। মাখোঁ ইরানের নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেন সব পক্ষকে "সর্বোচ্চ সংযম" পালনের অনুরোধ করেছেন এবং বেসামরিক মানুষদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে না দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে কানাডার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কানাডা সরাসরি বলেছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসের প্রধান উৎস। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়া সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না।

উত্তর কোরিয়া ও ইরাক: ইরানের পাশে

উত্তর কোরিয়া এই হামলাকে সরাসরি "অবৈধ আগ্রাসন" এবং "জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন" বলে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র মাধ্যমে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিবেশী দেশ ইরাক আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। ইরাকের সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, "মানবিক ও নৈতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রকাশ্য আগ্রাসন চালিয়ে" খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে।

পাকিস্তান ও ভারত: দুই প্রতিবেশীর দুই রকম প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ খামেনির হত্যাকে আন্তর্জাতিক আইনের "সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন" বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তু না করার যে দীর্ঘকালীন আন্তর্জাতিক প্রথা রয়েছে, সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের জনগণ এই দুর্সময়ে ইরানের শোকাহত মানুষের পাশে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম তিন দিন একেবারে চুপ ছিলেন, যা ঘরে-বাইরে কড়া সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভারত সফরের সময় যৌথ ব্রিফিংয়ে মোদি সংক্ষেপে বলেছেন, ভারত মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং উত্তেজনা কমাতে আলোচনার পক্ষে তার দেশ।

স্পেন, ইউক্রেন, আলবেনিয়া ও হাঙ্গেরির অবস্থান

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। স্পেন সরকার সরাসরি ঘোষণা করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় স্পেনের ভূমি বা সম্পদ কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ওদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি — যার দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে — ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে কাজ করছে" এবং এটি থেকে রাশিয়াও শিক্ষা নিক। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইদি রমা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। আর হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান মূলত জ্বালানি তেলের দামের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ন্যাটো কী করবে?

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-র মহাসচিব মার্ক রুতে জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে ন্যাটো একটি সংগঠন হিসেবে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রতিটি সদস্য দেশ নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে স্বাধীন।

বাংলাদেশ কী বলেছে?

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই যুদ্ধ ও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর ব্যথা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার হামলাকারী কোনো দেশের নাম না নিয়ে বলেছে, "কোনো সংকটের সমাধান সংঘাতে আসে না — বরং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও আলোচনাই বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র পথ।" বাংলাদেশ শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কোথায় যাচ্ছে?

এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, অন্যদিকে ইরান ও তার মিত্ররা — দুই পক্ষই পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ট্রাম্পের ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পাল্টা হামলার ব্যাপ্তি দেখে বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা শঙ্কিত। বিশ্ব বাণিজ্য, তেলের দাম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এখন বড় চাপের মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীসহ অনেক দেশের নাগরিকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন। জাতিসংঘ সব পক্ষকে "বিবেক খাটিয়ে কাজ করার" আহ্বান জানালেও মাঠের চিত্র এখনো উত্তপ্ত।

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে — এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামে, আর কূটনৈতিক আলোচনার দরজা আদৌ খুলবে কি না।

নিউজ প্রতিনিধি আমি Vknews24–এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত আছি। সমসাময়িক ঘটনা, স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু, সমাজ-সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।