ইরানে যুদ্ধ চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে — ডেইলি মেইলকে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। জানুন সর্বশেষ পরিস্থিতি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "এটি সবসময়ই চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমরা ধারণা করেছিলাম, এটি প্রায় চার সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময় লাগবে।" তিনি আরও জানান, ইরান একটি বড় ও শক্তিশালী দেশ হওয়ায় অভিযান সম্পন্ন করতে এই সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে চার সপ্তাহের অনেক কম সময়েও অভিযান শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা শুরু করে। এই যৌথ সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury)। ট্রাম্প এটিকে ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে শেষ করার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযান বলে বর্ণনা করেছেন।
এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফসহ শীর্ষপর্যায়ের ৪৮ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, আইআরজিসির সদরদপ্তর সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় ১৪৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে চারটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা হামলায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের ৯টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইরানের পাল্টা আঘাতে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে এবং হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ইরান ইসরায়েলের জেরুজালেম ও তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
কাতারে ৬৬টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার একটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবুধাবি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এই সংঘাত এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আলোচনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে রাজি আছেন। তবে সেটি এখনই সম্ভব নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, "তারা কথা বলতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি — তোমাদের গত সপ্তাহেই কথা বলা উচিত ছিল, এই সপ্তাহে নয়।"
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-র প্রতিবেদনে জানানো হয়, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছে এবং সরকার ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তেহরানের সড়কে লাখো শোকাহত মানুষ নামেন খামেনির মৃত্যুতে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির হত্যাকে নিন্দনীয় এবং মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।