তেহরানে আবারও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা — ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নতুন মাত্রায়
ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। সোমবার ভোরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা শহর।
তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু ইসরায়েলের — মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও যুদ্ধের আগুনে জ্বলে উঠেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) ভোরের দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান তেহরানের আকাশে উড়ে এসে একের পর এক আঘাত হানতে শুরু করে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের বিমান তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
এই হামলা কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলাকে "পূর্ব-পরিকল্পিত আক্রমণ" বলে উল্লেখ করেছেন এবং সারা ইসরায়েলে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
শুধু তেহরান নয়, ইরানের পাঁচটি বড় শহরে একসাথে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে — ইসফাহান, কওম, কারাজ, কেরমানশাহ এবং রাজধানী তেহরান। বিবিসি বাংলা-র প্রতিবেদনে জানা গেছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে — বিশেষ করে খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের কাছাকাছি এলাকায় — বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরান অবশ্য চুপ করে বসে নেই। পাল্টা আক্রমণ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে — কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই নয়, বাহরাইন, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নিশ্চিত করেছে।
এই সংঘাতের পটভূমিতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা। গত বছর ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা ফেলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে নিশ্চিত করেছেন যে "বড় ধরনের সামরিক অভিযান" চলছে এবং হামলায় কমপক্ষে ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যদি দ্রুত না থামে, তাহলে এটি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, বাড়ছে শরণার্থীর সংখ্যা এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। সারা বিশ্বের মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন করছে — কবে থামবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ?